12:15 AM বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ আর্জেন্টিনার  |  ইতালির মিলানে বক্সিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে পদক নিশ্চিত করলেন বিজেন্দ্র সিংহ  |  অবসর ভেঙে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলার ইচ্ছে প্রকাশ সৌরভের, ফিরতে চান ৪ দিনের ম্যাচে, স্বাগত জানালেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  |  বৈদিক ভিলেজের টাকায় দুবছরেই কোটিপতি গফফর, জেরায় প্রকাশ চাঞ্চল্যকর তথ্য  |  প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও শুল্ক দফতরের ছাড়পত্র পেয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ল সংযুক্ত আরবআমিরশাহির অস্ত্রবাহী বিমান  |  সিঙ্গুরের জমি কিনতে রাজি রেল, ৪০০ একর কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে বাকি অংশ হবে কোচ কারখানা, স্টার আনন্দে জানালেন মমতা   |  জোর করে জমি কেড়ে নেয়া নয়, রেলেরও উচিত জমি কিনে প্রকল্প গড়া, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  |  মহালয়ার দিনই দুরন্ত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন, সেবক-গ্যাংটক রেল প্রকল্পে অনুমোদন হাজার কোটিরও বেশি  |  
 
 
 পুরনো
    3/21/2008


Suman De
শিল্প-সম্ভাবনা-সর্বনাশ


 

বছরভরা ভুল ২০০৭৷ ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল৷ ছিল শিল্পায়নের উজ্বল সম্ভাবনাময় একটা বছর, হয়ে গেল ভুলে-ভরা চরম শিল্প পরিবেশবিরোধী একটা বছর ! ভুল সরকার ও শাসকদলের– রাজধর্ম পালনে বিচ্যুতির ভুল, দলীয় পেশী-আস্ফালন ও আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ভুল৷ ভুল চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধী দলের- সস্তা রাজনীতির স্বার্থে ধর্মঘট, রাজ্য অচলের কর্মসূচি, বিক্ষাভ-অবরোধ করে চরম শিল্পবিরোধী অবস্থান নেওয়া এবং তাতে গর্বিত হওয়া৷ ভুল, কিছুটা হলেও, উন্নয়নের নামে, শিল্পের নামে দ্বিধাগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ সমাজের, আত্মঘাতী বাছবিচারহীন প্রতিবাদ যা সরকারের শিল্পোদ্যোগ আর শাসক দলের তাণ্ডবকে এক করে ফেলে, প্রতিবাদের গর্জনে রাজ্যকে ঠেলে দিল নিঃশব্দ স্থিতিজাড্যের দিকে৷

বছর শুরু হয়েছিল জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুর ঘিরে ইতস্তত বিক্ষোভ দিয়ে, তারপর দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে তাকে বিভ্রান্তি, হিংসা, অরাজকতা, প্রশাসনিক অপদার্থতা, ‘জোর যার মুলুক তার’নীতির অস্ফালন– পর পর৷ আর এ সব কিছুর মাঝে হারিয়ে গেল শিল্পানুকূল পরিবেশটাই৷ বছরের শুরুতে বিরোধীরা উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন আর বছরের শেষে তাঁরা গড়পরতা শিল্প-বিরোধিতার অন্ধকার গলিপথটাকেই বেছে নিলেন সরকার-বিরোধীতার প্রতিযোগিতায় নেমে৷ ইতিমধ্যে নন্দীগ্রাম ও ‘সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত-পূর্ণগ্রাস’-কেন্দ্রিক ঘটনাবলি, বিবৃতি ও বিতর্ক বামপন্থার সমর্থক নাগরিক সমাজের সংবেদনশীল অংশকেও আঘাত করল, স্বপ্নভঙ্গের অভিঘাতে তাঁরা পথে নামলেন, শাসকদল চাটুকারদের পাল্টা মিছিলকে পথে নামাল, সব মিলিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ল; কৃষিজমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক, গ্রামসমাজের সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হারিয়ে গেল কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝখানে৷ আর নিটফল? যথারীতি উন্নয়নের প্রশ্নে সরকার কিছুটা ‘ডিফেন্সিভ’ অবস্থানের দিকে এগোল, বিরোধী রাজনীতি উন্নয়ন-বিরোধিতার পাদপিঠে দাঁড়িয়ে রইল, আর সচেতন শিক্ষিত নাগরিক সমাজ উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি না জানিয়ে, উন্নয়নের প্রয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ফেলল৷ ফলে শাসকের ক্ষতি এক আনা, কিন্তু শাসকের দোষে বা প্রতিবাদের দোষে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি আঠারো আনা৷
এমন শিল্প-সম্ভাবনার বিনষ্টির বছরই কিন্তু আলো দেখল শেষ সপ্তাহে এসে৷ আশা দেখাল অন্য একটা রাজ্য, সেই রাজ্যের অধিবাসী এবং এক ব্যক্তি৷ নরেন্দ্রভাই দামোদরদাস মোদী ও তাঁর গুজরাত৷ রাজ্যে চরম হিংসা, রক্তপাত, অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা, এমনকী রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাসের পরেও যে উন্নয়নের পথে হাঁটা যায়, এবং তাতে চরম সফল হওয়া যায়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মোদী৷ বামপন্থীরা তাঁর নাম শুনলেই সঘৃনায় নাক কুঁচকাতে পারেন, কিন্তু রাজধর্ম পালনের কর্তব্যে ফিরে এবং সর্বশক্তিতে শিল্পায়নের পথে
হেঁটে মোদী প্রমাণ করে দিয়েছেন রাজনীতি নয়, রাজ্যের মূলমন্ত্র করা যায় উন্নয়নকেই৷ সুতরাং, ২০০৭-এ পশ্চিমবঙ্গে বিস্তর রাজনৈতিক ডামাডোলে গতি হারানো শিল্পায়নের প্রক্রিয়াটি কিন্তু এখনও ঘুরে দাঁড়তে পারে৷ প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা , বিশ্বাসযোগ্যতা আর কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের সমাধান খুঁজে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন৷

কৃষি না শিল্প
‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ না ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যত’-স্লোগান হিসেবে কোনটা বেশি ব্যর্থ, তা নিয়ে একটা এসএমএস পোল খোলা যায় বটে৷ তবে বিজ্ঞাপন ব্যর্থ হলেও নন্দীগ্রাম ও নন্দীগ্রাম-উত্তর পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ছবিটা কিন্তু একটুও বদলায়নি৷ কৃষি এ রাজ্যের  ভবিষ্যত হতে পারে না, কারণ কৃষির উত্পাদনশীলতা আর বাড়া দুরূহ৷ মুখ্যমন্ত্রী জনসভায় বলে-বলে গল্পটাকে একঘেয়ে করে তুলেছেন, তবু একথাই সত্যি যে গ্রামে কৃষিজীবী পরিবারের এই প্রজন্মের সদস্যরা আর মাঠে যেতে চাইছেন না৷ আগের প্রজন্মের থেকে শিক্ষিত ও আলোকপ্রাপ্ত (কেবলটিভির আলোকপ্রাপ্তও বটে) হয়ে তাঁরা উজ্বলতর ভবিষ্যত ও উন্নততর জীবনধারণের প্রত্যাশী৷ ফলে শিল্পই ভবিষ্যত৷ জমির ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে৷ কৃষির ফলন থমকে গিয়েছে৷ কাজেই শিল্পায়নের বিকল্প  নেই৷ এখন প্রশ্ন কোন ধরনের শিল্প ? সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এমন শিল্প প্রয়োজন, যাতে কর্ম সংস্থানের সুযোগ প্রচুর, রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় যার ব্যপ্তি বৃহত্তর৷ কিন্তু স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, সেক্ষেত্রে সাবানের কারখানা বা কাপড়ের কল না করে কেমিক্যাল হাব বা মোটরগাড়ি কারখানা কেন ? উত্তর শুনতে খারাপ, তবে বেশ সহজ৷ গোটা দেশে শিল্পের দৌড়ে গত তিন দশকে পশ্চিমবঙ্গ এতটাই পিছিয়ে গিয়েছে, যে  খুব একটা বাছবিচার করার সুযোগ অন্তত এ রাজ্যে নেই৷ তা ছাড়া একটা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রায় সব ক’টি রাজ্য যখন নানা প্রলোভনে ( সস্তা জমি, কর ছাড়, অসংগঠিত ইউনিয়ন-হীন শ্রমিক) দিয়ে নিজের এলাকায় বিনিয়োগ টানার আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের কাণ্ডারীদের পক্ষে ‘ ভিক্ষার চাল বাছা’ (‘যোগ্যতায় ছিনিয়ে নেওয়া’ বললেও ছবিটা পাল্টায় না) শুধু কঠিন নয়, কার্যত অসম্ভব৷

জমি নিয়ে সংঘাত
শিল্প প্রয়োজন৷ শিল্পের জন্য জমির প্রয়োজন৷ আর সেই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংঘাত বিশ্বের ইতিহাসে আদপেই নতুন নয়৷ চিনে শুধু ২০০৫ সালেই নাকি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি নেওয়াকে কেন্দ্র করে ৬০ হাজারেরও বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ মজার কথা, এটা চিনের সরকারি তথ্য, কাজেই সংঘাতের ক্ষেত্র যে আরও বিস্তৃত এবং উদাহরণ যে কয়েক গুণ ব্যপক, তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ চিন থেকে ফের যাক এরাজ্যে৷ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেয়ে এ রাজ্যের অধিকাংশ কৃষকই কিন্তু চাষের জমি দিতে যে কোনও দিন প্রস্তুত৷ কারণ শুধু এ প্রজন্মের কৃষিজীবী পরিবারের সেই উচ্চাকাঙ্খা নয়, কারণ নানাবিধ৷ পুরনো চাষের পদ্ধতিতে আয় আর যথেষ্ট নয়, উত্পাদন শক্তি না বাড়লেও চাষের খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ৷ নানা জমানায় লাভজনক জৈব প্রযুক্তির চাষ ও ফল-সব্জী থেকে আধুনিক পণ্য বিপনন- কৃষিতে এ যুগে লাভজনক প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন প্রচুর পুঁজি, যা জোগানোর সামর্থ্য ক্ষুদ্র চাষীর নেই৷ এছাড়া ক্ষতিপূরণের থোক টাকা অন্যত্র বিনিয়োগ করে অন্য রোজগারের স্বপ্ন তো আছেই৷ ‘কাজেই জমি নিতে এলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে’ বা বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র মেদিনী না দেওয়ার আহ্বানে স্পষ্ট দুটি কারণ থাকতে পারে৷ হয় জমি অধিগ্রহণ পদ্ধতির অস্বচ্ছতা বা প্রশাসনে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব, আর নয়তো, স্রেফ কুটিল রাজনৈতিক বা প্রতিবাদী নাগরিক মস্তিষ্ক প্রসূত কৃষক ক্ষেপানো বিপ্লব৷

industry.jpg

কোন জমি নিতে হবে ? কাকে বলে অরণি ?
“ কার নাম দুন্দুভি ? কাকে বলে অরণি ?
বলবে কি, তোমরা তো নোটবই পড়নি৷”
সুকুমার রায়ের সেই স্কেচটির মত হাতে নোটবই নিয়ে একশ্রেনীর কৃষিজমি পণ্ডিতের আবির্ভাব হয়েছে এরাজ্যে৷ যাঁদের ‘সুচিন্তিত’ মত, শিল্পের জন্য বহুফসলি তো দূরস্থান, একফসলি জমিও নেওয়া উচিত্ নয়, শিল্প করতে হলে তা কেবল মাত্র পতিত জমিতে বা যে জমি চাষ হয় না, সেই জমিতেই করতে হবে৷ বলা বাহুল্য এ কুযুক্তির চেয়ে সাফ বলে দেওয়া ভাল যে, এরাজ্যে নতুন শিল্প আনা নিষিদ্ধ করা হোক৷ স্পষ্টত, যেখানে জমি উর্ব্বর, যেমন- হাওড়া, হুগলি, পূর্বমেদিনীপুর, বর্ধমান, সেই সব জায়গাতেই বিদ্যুত, রাস্তাঘাটের মত পরিকাঠামো বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল৷ আবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া বা পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জায়গায় অনেক অব্যবহৃত পতিত জমি থাকলেও পরিকাঠামো অবর্ণনীয়৷ এখন অনগ্রসর এলাকায় পরিকাঠামো  উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আসছেন, তাঁর কী দায় পড়ছে দুর্বল পরিকাঠামো  ও যোগাযোগ ব্যবস্থাযুক্ত পতিত জমি খুঁজে প্রচুর বাড়তি অর্থ ব্যয় করে সেখানে কারখানা করার ? মনে রাখতে হবে, অন্য রাজ্য কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতোই ( অনেক সময়  অনেক বেশি) বিনিয়োগকারীর দিকে হাত বাড়িয়েই আছে৷
সবচেয়ে বড় কথা, কৃষি না শিল্প- তা নিয়ে কফির কাপে তুফান তুলতে তুলতে আমরা একটা তথ্য বোধহয় ভুলেই যাচ্ছি যে, এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের যেখানে যত জমি অধিগ্রহণের কথা উঠেছে বা অদূর ভবিষ্যতে উঠতে পারে, তা সর্বসাকুল্যে এ রাজ্যের মোট কৃষি জমির এক শতাংশেরও কম!কাজেই অন্তত এখানে দাঁড়িয়ে ‘কৃষি-নির্ভর পশ্চিমবঙ্গের সর্বনাশ’-এর কষ্টকল্পনা যে কিছুটা অন্ধের হস্তিদর্শন, তাতে সন্দেহ কি?

অতঃকিম?
বলা সহজ৷ আর বাস্তবে তা রূপায়ন করা ততটা কঠিন৷ জমি অধিগ্রহণের ব্যপারে জনসাদারণকে প্রয়োজন ও ভবিষ্যত্ সম্ভাবনার কথা বুঝিয়ে বলার দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার যে কতটা অভাব শাসকদল ও প্রশাসনিক স্তরে রয়ে গিয়েছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নন্দীগ্রাম৷ পরমত-অসহিষ্ণু উদ্ধত একতরফা প্রচার যে কার্যত অর্থহীন, সেটা সরকার ও গ্রাম বাংলায়  তৃণমূল স্তরে মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা’র দাবি করা শাসকদল বুঝলেই মঙ্গল৷ এছাড়া ক্ষতিপূণের পদ্ধতি, পুনর্বাসন ব্যবস্থা- এসব কিছু নিয়ে  সব পক্ষের সঙ্গে ধৈর্য ধরে খোলা মেলা আলোচনাও খুব গুরুত্বপূর্ন৷ সিঙ্গুরে মোটরগাড়ি কারখানায় বা নয়াচরে কেমিক্যাল হাব-এ কত জনের চাকরি হবে সেটা পরিস্কার করে বোঝাতে হবে বৈইকী! সরকারের শিল্প সদিচ্ছার স্পস্ট প্রমান রাখতে হবে৷ তবে এই মুহূর্তে নন্দীগ্রাম কাণ্ডের পর জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা এমন তলানিতে এসে ঠেকেছে যে, অবিলম্বে প্রয়োজন একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের৷ এই কমিশন ক্ষতিপূরণের সামগ্রিক ব্যবস্থাটি তদারকি করবে, সব প্রতিশ্রুতি পূরণ নিশ্চিত করবে, এবং মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য এই কমিশনকে প্রশাসন থেকে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন ও মহাকরণ বা অলিমুদ্দিন স্ট্রীটের নিয়ন্ত্রনের বাইরে রাখতে হবে৷ হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগের মতো কমিশনের কর্তাদের নিয়োগে সরকারের কোনোও ভূমিকা থাকবে না৷ উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের এপ্রিলে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র উদ্যোগে ন’জন বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদদের যে টিম রাজ্যের শিল্পায়নের পথনির্দেশ করেছিলেন৷ বিরধীদের যুক্তিহীন সমালোচনা শুনে অকারণে প্রতিক্রয়া জানান সরকারের প্রধানরা, বিদ্বজ্জনেদের মিছিলে অপ্রয়োজনে লাঠি চলে, কিন্তু এমন একটি সুপরামর্শ সরকার ও শাসক দলের কানে উঠবে কি ?

একা নন্দীগ্রাম নয়
যে কোনও বড় ঘটনার প্রভাব কখনও কখনও এত সর্বব্যাপ্ত হয়, যে তার আগে-পরের অনেক ঘটনাকে ম্লান করে দেয়, গোটা পরিস্থিতিটাকেই পাল্টে দেয়৷ এমনকী অনেক সময়ে জনগণের ক্ষণস্থায়ী স্মৃতি থেকে পুরোনো ছবিটা মুছেও দেয়৷ নন্দীগ্রামের 11 মাসের ঘটনাও এর ব্যতিক্রম নয়৷ নন্দীগ্রাম-পূর্ব পশ্চিমবঙ্গে কি শিল্পন্নয়নে কোনও বড় বাধা ছিল না ? ছিল, দূর্ভাগ্যের বিষয়, আজও সেটি রয়েছে এবং ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন, নন্দীগ্রামের ঘটনাবলী থেকে এই সমস্যা কিছু মাত্র কম নেতিবাচক নয়৷ তা পশ্চিমবঙ্গের আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক ভাবে অনিরপেক্ষ, অদক্ষ, দীর্ঘসূত্রিতার ব্যধিতে আক্রান্ত আমলাবাহিনী৷ মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, শিল্পসচিব বা তাঁদের কয়েকজন হাতে গোনা সহমর্মী-সহকর্মীর একান্ত সদিচ্ছাতেও এ ছবি বদলানোর নয়, সরকারি মহলে অকাজের লোক এত বেশি এবং বামফ্রন্টের আমলে অকাজের সংস্কৃতি এমন বিপুল প্রসার লাভ করেছে, তাতেই শিল্পপতিরা যে এরাজ্য থেকে দূরে সরে থাকবেন, তাতে সন্দেহ কী ? কতটা গভীর এই অমলাতান্ত্রীক ব্যাধি তার সবচেয়ে বড় প্রমান, কলকাতয় দাঁড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস-এর মানবসম্পদ বিভাগের কর্ণধার টি মোহনদাস পাই –এর চাঁচাছোলা বক্তব্য৷ মোহনদাস দ্বার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কাজের গতি যেখানে বেশি, আমরা সেখানে যাব৷ অর্থাত্, ‘ডু ইটনাও’-এর গালভরা স্লোগান নয়, তার রুপায়নেই আগ্রহ শিল্পসংস্থার পরিচালকদের৷ ইনফোসিস ব্যবসা বিস্তারের জন্য কলকাতায় জমি চেয়ে গালে হাত দিয়ে দু’বছর পার করে ফেলেছে- জমি পায়নি, পেয়েছে জমি খুঁজে দেওযার প্রতিশ্রুতি৷ ইনফোসিস কর্তাদের মতে, রাজ্য সরকার দু’ বছর আগেই ‘জমি দিতে পারবে না’ এমনটা বলে দিলে, ক্ষতি এরচেয়ে কম হতো৷ বিনিয়োগ নিয়ে প্রতিযোগিতার এই যুগে অন্যরাজ্যের পেশাদারিত্বের পাশে এমন অত্মঘাতী ঢিলেমি স্বাভাবতই ইনফোসিস-এর চেয়েও ক্ষতি করছে এ রাজ্যের৷ এখন, বঙ্গসমাজে, বোধহয় ডিএনএ-গত ভাবেই তত্পরতা, দক্ষতা বা পেশাদারিত্ব বিশেষ সুলভ নয়৷ তারপর রাজনাতিক প্রশয়ে সরকারি লাল বাড়িতে সাড়ে আঠেরো মাসে  বছর সুনিশ্চত হয়েছে৷  কিন্তু মুক্তির উপায়? আমালাতন্ত্রের প্রথাগত কাঠামো থেকে বার হয়ে অন্য ক্ষেত্র থেকে কৃতী প্রশাসক খুঁজে তাঁদের কাজের পরিবেশ ও সিদ্ধান্তগ্রহনের স্বাধীনতা দিতে হবে৷ আলিমুদ্দিনের নিয়ন্ত্রণ বা প্রশাসন যন্ত্রের ভিতর থেকে আসা স্থিতাবস্থা বা মধ্যমেধার বাধা অতিক্রম করতে তাঁদের সাহায্য করতে হবে৷ আর সব শেষে, সময় লাগলে ধীরে ধীরে দক্ষ, নিরপেক্ষ, পেশাদার বাঙালি আমালাকুল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব স্তর থেকে যত্নবান হতে হবে৷ শুধু শিল্প বিনিয়োগ আনা নয়, ‘দক্ষ বাঙালি আমালা দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হয়’ এ অপবাদও ঘোচাতে হবে দ্রুত৷ পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে৷

সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়
রাজ্যের শিল্প-সম্ভাবনার মুখে কুঠারাঘাত করে ২০০৭ বিস্তর ক্ষতি করেছে বঙ্গবাসীর৷ পারস্পরিক অনাস্থা ও দোষারোপের পরিবেশ উপহার দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি৷ শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে জনমানসে এক বিরূপতার জন্ম দিয়েছে নন্দীগ্রামের ঘটনা৷ এসব কিছুর সমাধান কিন্তু নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর৷ স্বাভাবতই শাসকদলের দায়িত্বই সেখানে বেশি৷ বিমান বসু, বিনয় কোঙারদের বুঝতে হবে, রাজ্য অর্থনীতির আকাশে সূর্যোদয়ের গুরুত্ব নন্দীগ্রামে দলীয় সূর্যোদয় ও তার তাপ প্রদানের গুরুত্বের চেয়ে ঢের বেশি৷
রাজ্যবাসীর জন্য৷ দীর্ঘমেয়াদি বিচারে তাঁদের দলের জন্যও৷
মানুষ বাঁচলে, সরকার বাঁচবে৷ বাঁচবে দলও৷ এ বোধদয় এ রাজ্যের কান্ডারীদের যত শীঘ্র হয়, তত মঙ্গল৷



 মন্তব্য


 মন্তব্য পাঠিয়ে দিন
নাম  
ই-মেল    
এখানে লিখুন    
 
  বাংলায় সংখ্যা লেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
   
            ফিরে যান       
 
 
© 2007 STAR Group Limited. সর্ব সত্ব সংরক্ষিত অভিযোগ জানান | গ্রুপ প্রোফাইল | অনুষ্ঠানের বিবরণ | কেরিয়ার | আনন্দে বিজ্ঞাপন | আমাদের সম্পর্কে