12:09 AM বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ আর্জেন্টিনার  |  ইতালির মিলানে বক্সিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে পদক নিশ্চিত করলেন বিজেন্দ্র সিংহ  |  অবসর ভেঙে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলার ইচ্ছে প্রকাশ সৌরভের, ফিরতে চান ৪ দিনের ম্যাচে, স্বাগত জানালেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  |  বৈদিক ভিলেজের টাকায় দুবছরেই কোটিপতি গফফর, জেরায় প্রকাশ চাঞ্চল্যকর তথ্য  |  প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও শুল্ক দফতরের ছাড়পত্র পেয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ল সংযুক্ত আরবআমিরশাহির অস্ত্রবাহী বিমান  |  সিঙ্গুরের জমি কিনতে রাজি রেল, ৪০০ একর কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে বাকি অংশ হবে কোচ কারখানা, স্টার আনন্দে জানালেন মমতা   |  জোর করে জমি কেড়ে নেয়া নয়, রেলেরও উচিত জমি কিনে প্রকল্প গড়া, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  |  মহালয়ার দিনই দুরন্ত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন, সেবক-গ্যাংটক রেল প্রকল্পে অনুমোদন হাজার কোটিরও বেশি  |  
 
 
 পুরনো
    4/25/2008


Arnab Mukhopadhyay
ছাত্র রাজনীতি, লাঠির রাজনীতি


 

একটা সময় ছিল, যখন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বলা হত ‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’৷ কিন্তু সে তো সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর যুগের কথা৷ আর এ তো ঘোর কলি৷ তাই ছাত্রদের পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিও সাধনবস্তু৷ অবশ্য ভবিষ্যত্ প্রজন্ম দেশ-কাল-রাজনীতি নিয়ে যদি না ভাবে তবে ভাববেটাই-বা কে? কিন্তু সম্প্রতি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি কি সত্যিই আশাপ্রদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়?

প্রেসিডেন্সি, শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়--- ছাত্র রাজনীতির টানাপোড়েনের জেরে এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলি এখন খবরের শিরোনামে৷ মূল স্রোতের রাজনীতির কালো দিক বহুদিন আগেই এই ‘এলিট’ প্রতিষ্ঠানগুলির ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতৃষ্ণা তৈরি করেছে৷ শুরু হয়েছে নিরপেক্ষ রাজনীতির যুগ--- অরাজনৈতিক রাজনীতি৷ এমনকী, মূলস্রোতের বাইরে থাকা ছোট রাজনৈতিক দলগুলির অনেকেই এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনীতি চালাচ্ছে, নিরপেক্ষ রঙের আড়ালে৷

স্বাভাবিক ভাবেই এই নিরপেক্ষ রাজনীতি শাসক দলের কাছে মাথাব্যথার বিষয়৷ প্রেসিডেন্সি কলেজে কিছু দিন আগেই ডিএসও-র সঙ্গে জোট বেঁধে ছাত্র সংসদ দখল করেছে এই রাজনীতির সমর্থকরা৷ কিন্তু তারপরেই ছাত্র রাজনীতির আদর্শগত মোহভঙ্গ৷ শাসক দলের ছাত্র সংগঠন চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে চড়াও হল তথাকথিত নিরপেক্ষ ছাত্র সংগঠন ও সংবাদ মাধ্যমের উপর৷ মন্ত্রীপুত্র-মন্ত্রীকন্যার উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্সি দেখল লাঠির রাজনীতি৷ পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা বে-আব্রু করে দিল ছাত্র রাজনীতির কালো দিক৷ বে-আব্রু হল শিক্ষার আঙিনায় এসএফআইয়ের নির্লজ্জ দাপাদাপি৷
বাদ নেই শিবপুরও৷ গুরু মশায়ের বেত ছাত্রদের ঘাড়ে পড়ে ক্ষতি নেই, কিন্তু গুরু মশাই যখন সেই বেত তুলে দেন পুলিশের হাতে, তখন কেমন লাগে, তা ভালই বুঝছে বেসু৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পরীক্ষার সময়ে পুলিশি দূর্গে পরিনত হয়েছে বেসু৷ স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্র থেকে শিক্ষক, পথে নেমেছেন সবাই৷ এসএফআই এবং তাদের বহিরাগত সমর্থকরা ক্যাম্পাসের মধ্যে এবং বাইরে নিরপেক্ষ রাজনীতির সমর্থক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসলিডেশন বা আইসি-র সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে মিডটার্ম পরীক্ষার কিছুদিন আগে৷ এমনই অভিযোগ আইসি-র৷ এরপরই ছাত্র সংঘর্ষ থামাতে ক্যাম্পাসে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করে কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয় এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের প্রতিবাদে পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফাঁকা খাতা জমা দেয় বহু ছাত্রছাত্রী৷ অনেকে খাতায় বিভিন্ন মন্তব্যও লিখে দেয়৷ স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে সরব হয় বহু ছাত্রছাত্রী৷ ধর্মতলায় বিক্ষোভ সমাবেশও শুরু করে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা৷ নাগরিক সমাজের একাংশও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় প্রতিবাদীদের দিকে৷ পরীক্ষা পদ্ধতিতে অনিয়ম এবং ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে শিক্ষকদের একাংশও পরীক্ষা বয়কট করেন৷ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন উপাচার্য স্পর্শমণি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী এবং এ থেকে বেরিয়ে আসারই বা কী রাস্তা রয়েছে, তা দেখার জন্য এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷ 

25Ju.JPGঅর্থাত্ এখানেও সমস্যা সেই ছাত্র রাজনীতি৷ কর্তৃপক্ষ বহুদিন বন্ধ রেখেছেন ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন৷ স্বাভাবিক ভাবেই ছাত্রদের সমস্যা আর তার সমাধান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার তেমন কোনও প্রতিনিধিই তৈরি হয়নি ছাত্রদের পক্ষ থেকে৷ শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, শাসক দলের ছাত্র সংগঠন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে খারাপ ফল করবে ভেবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নির্বাচনে যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ৷
প্রেসিডেন্সি, বা শিবপুর, বা যাদবপুরে নিরপেক্ষ রাজনীতির সমর্থকেরা যে সব সময় ঠিক, এমনটা নয়৷ এসএফআই-এরও অভিযোগ রয়েছে আইসি-র বিরুদ্ধ৷ কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, রাজনীতিতে যে রাজারই দাপট, তা সবসময় বোঝাতে তত্পর শাসকগোষ্ঠী৷ তাই তাদের ছাত্র সংগঠনের ছাত্ররাও রাজদন্ড হাতে রুখতে চায় নিরপেক্ষ রাজনীতির হাওয়া৷
প্রেসিডেন্সিতে আইসি, যাদবপুরে কলা বিভাগে একই ভাবে ডিএসও-র সঙ্গে ফ্যাস জয় পেয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে৷ শিবপুরে দাপট রয়েছে আইসি-র৷ কর্তৃপক্ষ এবং এসএফআই-এর আচরণের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতাতেও ক্ষোভ উগরেছে নিরপেক্ষ রাজনীতির সমর্থকদের একাংশ৷ স্বাভাবিক ভাবেই সিঁদূরে মেঘ দেখছে শাসক দল৷
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সমগ্র রাজ্য রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে বহু স্কুল পরিচালন কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হচ্ছে সিপিএম৷ স্বাভাবিক ভাবেই শাসক দলের প্রতিটি কোনায় তৈরি হচ্ছে হতাশা৷ এই জায়গা থেকে নিরপেক্ষ রাজনীতির সমর্থকেরাও স্থানীয় ইস্যু ছাড়া রাজ্য রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করেছে৷ বিরোধীদের জবাব দেওয়ার তর্কের ভাষা সিপিএমের হাতে থাকলেও এই নিরপেক্ষ রাজনীতির দিকে আদর্শগত দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তোলা ছাড়া শাসকদল বা তার ছাত্র সংগঠনের কিছুই করার নেই৷
সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম বা রিজওয়ানুর ইস্যুতে বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ হাতছাড়া হয়েছে বামেদের৷ নিরপেক্ষ রাজনীতিও একই ইস্যুতে কোনঠাসা করেছে লাল ঝান্ডাকে৷ সমাজের অগ্রগন্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত ‘এলিট’ চিন্তাশীল ছাত্রছাত্রীদের দাপটে নাভিশ্বাস উঠেছে তাদের৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমাজের অন্য অংশও যদি এইসব চিন্তাশীলদের অনুসারি হয়, তাহলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আশঙ্কার যে যথেষ্ট কারণ থাকছে, তা বুঝতেই পারছে শাসকগোষ্ঠী৷
আর তাই শাসক দল এবং তাদের ছাত্র সংগঠন মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রেসিডেন্সি, শিবপুর বা যাদবপুর দখলের৷ শক্তি প্রদর্শণের রাজনীতি কলুষিত করছে ছাত্র রাজনীতির পরিবেশকে৷ যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানের চৌহদ্দির বাইরের রাজনীতির কালোদিক দেখে রঙের রাজনীতির বিরোধী হয়ে নিরপেক্ষতার দিকে এগিয়েছিল, তারাই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও রঙের ভীতি প্রদর্শণের রাজনীতি দেখে উল্টে আরও বেশি করে নিরপেক্ষতার দিকে ঝুঁকছেন৷
এদিকে শাসক দল বা তার ছাত্র সংগঠন এই ছাত্র রাজনীতি থেকে তেমন কিছু না পেলেও, দিচ্ছে অনেককিছুই৷ প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে দূরঅপনেয় কালিমা, বর্তমান ছাত্রদের দিচ্ছে রাজনৈতিক উদাসীনতা, আর প্রাক্তন ছাত্রদের ‘এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র’ বলে অহঙ্কার করার পরিবর্তে লজ্জা৷
সবশেষে আসতেই হবে সেই তোতা কাহিনীতে৷ তোতাকে শিক্ষা দিতে এবার “শিক্ষামহলে হাপর, হাতুড়ি, আগুন লইয়া কামার আসিয়া হাজির৷ কী দমাদ্দম পেটানি৷ লোহার শিকল তৈরি হইল, পাখির ডানাও গেল কাটা৷” আবার “তখন পন্ডিতেরা একহাতে কলম, একহাতে সড়কি লইয়া এমনই কাণ্ড করিল, যাকে বলে শিক্ষা৷” তোতার বদলে ছাত্ররাই এখন আটকে পড়েছে রাজনীতির লোহার শিকলে৷



 মন্তব্য

ajay  4/25/2008
<P>ruler of the state killed democracy by their hand made police.<BR></P>
 
1

 মন্তব্য পাঠিয়ে দিন
নাম  
ই-মেল    
এখানে লিখুন    
 
  বাংলায় সংখ্যা লেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
   
            ফিরে যান       
 
 
© 2007 STAR Group Limited. সর্ব সত্ব সংরক্ষিত অভিযোগ জানান | গ্রুপ প্রোফাইল | অনুষ্ঠানের বিবরণ | কেরিয়ার | আনন্দে বিজ্ঞাপন | আমাদের সম্পর্কে