সাধারণ মানুষে কথা যে কেউ ভাবে না, তা আবার প্রমাণিত৷ পরপর দু’দিন কার্যত অচল রাজ্য৷ দাদাদের দাদাগিরিও আছে উপরি পাওনা হিসাবে৷ সরকারি কর্মীদের টানা অবসর৷ কেউ কেউ জামাই ষষ্ঠী পালন করতে শশুড় বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছেন বুধবার রাতেই৷ বনধ ঘোষণার পর এক মুহূর্তও নষ্ট করেননি তাঁরা৷ কেউ আবার বনধকে সমর্থন করে ‘অন প্রিন্সিপল’ অফিস যাননি৷
কিন্তু আমজনতা? রোগীর আত্মীয়রা? ‘দিন আনা দিন খাওয়া’ মানুষগুলো? তাঁদের কী হল? অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আটকে থাকতে হল রাস্তায়৷ না খেতে পেয়ে দিন যাপন করতে হল দরিদ্রদের৷ যাঁদের কথা মাথায় রেখে বনধ পালন করার ঘোষণা, সেই আমজনতা কি আদৌ খুশি?

একটি হিসাব করা যাক৷ রান্নার গ্যাসে সিলিন্ডার প্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা করে৷ পরিবার পিছু বছরে ৮টি সিলিন্ডার ধার্য করার কথাও উঠেছে৷ রেশনিং চালু করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে৷ যদি ৮টি সিলিন্ডার দেওয়া হয়, তাহলে রান্নার গ্যাস কিনতে পরিবার পিছু খরচ বাড়বে ৪০০ (৮X৫০) টাকা৷ আর দু’দিনের বনধে ক্ষতি পরিমাণ কত? অনেকের হাজার হাজার টাকা৷ অনেকের কম৷ অনেক যাত্রীর ট্রেন অনেক লেট করবে বলে যাত্রা অনিশ্চিত, টিকিটের টাকা জলে৷ মোটের উপর, পরিবার পিছু ক্ষতির পরিমাণও গড়ে ৪০০ টাকার কম বলে মনে হয় না৷ এই ক্ষতিপূরণ দেবে কে?
অর্থাত্ জ্বালানির দাম যতখানি বাড়ল, বনধের জেরে সাধারণের উপর চাপ পড়ল কার্যত তার দ্বিগুণ (বেশিও হতে পারে আবার সামান্য কমও)৷ এর জন্য দায়ী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বনধ ডাকা রাজনীতিকরাই৷
বিমান বসু আক্ষেপ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আরও আগে বনধ ডাকতেন তাহলে নাকি বামফ্রন্ট সেই বনধকেই সমর্থন করত৷ তাঁরা নাকি টানা ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেছিলেন মমতা বনধ ডাকেন কিনা তা দেখার জন্য৷ মমতা ততক্ষণেও কোনও ঘোষণা করেননি, তাই নাকি বাধ্য হয়েই বনধ ডেকেছে বামফ্রন্ট৷ বিমান বসু এও বলেছেন, একই ইস্যুতে মমতার ডাকা বনধ অনর্থক৷ কিন্তু, যখন জানা গেল তৃণমূল শুক্রবার বনধ ডেকেছে, তখন কেন বিমান বসুরা নিজেদের বনধ প্রত্যাহার করে তৃণমূলের বনধকে সমর্থন করলেন না, তা কিন্তু অজানাই থেকে গেল৷ মানে, বিমান বসু বৃহস্পতিবারের বনধের ক্ষীরটুকু নেবেন, কিন্তু দায় চাপাবেন অন্যের উপর! সাবাশ!
জনগণের উপর চাপ বাড়ুক৷ পকেটে টান পড়ুক৷ তবেই না দাদাদের এমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাব আমরা৷ সবকিছু ঠিকঠাক চললে, তাঁদের বুদ্ধি ও মেধা সম্পর্কে তো আমরা অন্ধকারেই থেকে যাব!